স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে পরিকল্পনা করেছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচনগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেটও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দলীয় প্রভাবমুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সরকার প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রেও সরকার সহযোগিতা করবে। জনগণ যাতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে বুধবারও প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন।
মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের সময়ের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ বছরে বিনা ভোটে, রাতে ভোট এবং ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অনেক সংসদ সদস্য ও হুইপ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির নেতারাও বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তবে তারা গাইবান্ধার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গাইবান্ধার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, জেলাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষির উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জেলায় আসার আগে তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নিয়েছেন বলেও জানান।
মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন্নবী টিটুলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জি বাংলা ডেস্ক