কৃষক কার্ড ও সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা দলীয় প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলাও করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কায়সার কামাল বলেন, কৃষক কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির দলীয় পরিচয়, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া যাবে না। প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তাঁদের কার্ড দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের জন্য সরকার যে অনুদান ও সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ করে, তা সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। কার্ড বিতরণ বা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কেউ অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা আর্থিক লেনদেনে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলা করার কথাও জানিয়েছেন।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে সরকারি সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শুরু থেকেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপুর-কলমাকান্দা অঞ্চলের জামদানি শিল্পের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জামদানি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচিতি পেয়েছে। কারিগরদের আর্থিক প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে জামদানি শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
পাহাড়ি এলাকায় খাবার পানির সংকট ও বন্য হাতির উপদ্রব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেরপুর ও নেত্রকোনার পাহাড়ি অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন বা অনিয়মে জড়াবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, দুর্গাপুরের বিরিশিরি ইউনিয়নের কাপাসকাটিয়া ব্লকে ১ হাজার ১৭০ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নারী ও পুরুষ কৃষকসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নেও তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম হেলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
জি বাংলা ডেস্ক