নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিনামূল্যে সিগারেট না দেওয়ায় মো. ইব্রাহিম খলিল (৩৫) নামে এক মুদিদোকানিকে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ ইব্রাহিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবক মো. সুমনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে সুমনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বাজারে কেন্দুয়া-আঠারোবাড়ী সড়কের পাশে ‘ইসরাত জাহান স্টোর’ নামে মুদিদোকান চালান ইব্রাহিম খলিল। তিনি চেংজানা গ্রামের মো. সুলতান উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে দোকানে বেচাকেনার সময় একই গ্রামের মৃত কদে নেওয়াজের ছেলে সুমন সেখানে এসে বিনা মূল্যে বা বাকিতে সিগারেট চান। ইব্রাহিম সিগারেট দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন দোকানে থাকা পেট্রল ইব্রাহিমের শরীরে ও দোকানের বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ইব্রাহিম দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠান। পরে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ইব্রাহিমের ভাই মো. লাদেন মিয়া বলেন, তার ভাইয়ের শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকেরা তার অবস্থা সংকটজনক বলে জানিয়েছেন। আগুনে দোকানে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামালও পুড়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য ও ভিডিও ফুটেজের সহায়তায় রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পার্শ্ববর্তী সহিলাটি গ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় সাহিতপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জি বাংলা ডেস্ক