অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, উপদেষ্টা হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের বাসায় থাকার সময় এক তরুণের কথায় তিনি সেখান থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘পুলিশ বিড়ম্বনা’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।
আসিফ নজরুল লেখেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি ফুলার রোডের বাসায় থাকতে চেয়েছিলেন। তবে বাসায় ফিরে সিঁড়িঘরে পাঁচ-ছয়জন পুলিশ সদস্য দেখতে পান। উপদেষ্টা হিসেবে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরকার সেখানে পুলিশ মোতায়েন করেছিল বলে জানান তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরদিন সকালে ফুলার রোডের এক তরুণ বাসার সামনে পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন। জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ তিনি চাননি, সরকার নিরাপত্তার জন্য তাঁদের সেখানে দিয়েছে। তখন ওই তরুণ পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে বলেন, পুলিশ দেখলেই তাঁর মাথা গরম হয়ে যায় এবং ‘জ্বালিয়ে দিতে ইচ্ছে করে’।
আসিফ নজরুলের পোস্ট অনুযায়ী, ওই তরুণ পরে বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনে পুলিশ গুলি করে মানুষ হত্যা করেছে এবং চোখের সামনে পুলিশ দেখলে তাঁর খারাপ লাগে। এতে তিনি হতবাক হন বলে জানান সাবেক এই উপদেষ্টা। ওই তরুণ জুলাইয়ের গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা তিনি তখন জানতেন না বলেও উল্লেখ করেন।
পোস্টে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ওই তরুণের বাবা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছিলেন বলে তিনি জানতেন। শিক্ষকদের একটি সমাবেশের অগ্রভাগে তাঁর বাবার ছবি দেখেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর মধ্যে প্রতিদিন তাঁর বাসায় বিপুলসংখ্যক অতিথি আসতে শুরু করে বলেও পোস্টে জানান আসিফ নজরুল। তাঁদের অনেককেই তিনি চিনতেন না। বাসায় জায়গা না হওয়ায় সিঁড়ি, সিঁড়িঘর ও ভবনের সামনের জায়গাতেও লোকজন অবস্থান করতেন। এতে প্রতিবেশীদের অসুবিধা হচ্ছিল এবং তাঁর স্ত্রীও সমস্যায় পড়ছিলেন বলে জানান তিনি।
আসিফ নজরুল লেখেন, যে তরুণ তাঁকে পুলিশ সরানোর কথা বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে পরবর্তী সময়ে প্রায় প্রতিদিনই দেখা হতে থাকে। তরুণটির আচরণেও বিরক্তি বাড়তে দেখেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে তাঁর মনে হয়, ফুলার রোডের বাসায় আর থাকা সম্ভব নয়।
পুলিশ সদস্যদের নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান সাবেক এই আইন উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, বাসার নিচে অল্পবয়সী ও মলিন চেহারার পুলিশ সদস্যরা বসে থাকতেন। গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ সদস্যরা এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন—তাঁদের বিপদ আরও বাড়াতে চাননি তিনি।
পরে সন্তানদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি করিয়ে মন্ত্রীপাড়ায় নতুন বাসা খোঁজা শুরু করেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানান আসিফ নজরুল।
জি বাংলা ডেস্ক