চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনায় সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে (আরএসজিটিআই) নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৫ বছরের খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তবে সরকারি ঘোষণায় বিদেশি অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এনসিটি পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের কয়েক বছর ধরে আলোচনা চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে কমিটি ও সহায়ক টিম গঠন করেছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে সিসিটির ক্ষেত্রে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে অপারেটর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিসিটি ও সাধারণ কার্গো বার্থ পরিচালনার পাশাপাশি বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সিসিটি পরিচালনার জন্য এর আগে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল—দুই প্রতিষ্ঠানই প্রস্তাব দিয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে আরএসজিটিআইকে নিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তাদের বক্তব্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক এই টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে না দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনেই পরিচালনা করা উচিত। এ নিয়ে ৫ অক্টোবর বন্দর এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট ও গণ-অবস্থানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নতুন নয়। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে পিপিপি কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে নীতিগত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি পরিচালনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশনকে লেনদেনবিষয়ক পরামর্শক নিয়োগ করা হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াও এগিয়ে যায়। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা, খসড়া চুক্তি, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নসহ বিভিন্ন ধাপ অগ্রসর হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আবারও সক্রিয় হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ব্যবস্থাপনায় এনসিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ এনসিটির মাধ্যমে হয়েছে। ফলে এনসিটি ও সিসিটির পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
জি বাংলা ডেস্ক