সোমালিয়ায় ইসরাইলের কোনো উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। তাঁর ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সোমালিয়াকে জড়ানোর যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহামুদ দাবি করেন, ইসরাইল সোমালিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিতর্কিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ডের বারবেরা শহরে নৌঘাঁটি স্থাপন এবং সেখানকার বিমানবন্দর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এমন পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
মোহামুদ বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমরা ইসরাইলের উপস্থিতি মেনে নেব না।’ ইসরাইলের এমন উদ্যোগের বিরুদ্ধে সোমালিয়া প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও জানান তিনি।
এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত বারবেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। ইয়েমেনের বিপরীত দিকে থাকা শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। মোহামুদের দাবি, বারবেরায় ইসরাইলের উপস্থিতির উদ্দেশ্য শুধু সামরিক ঘাঁটি স্থাপন নয়; এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশ ও ইরানের আরও কাছাকাছি পৌঁছানোও ইসরাইলের লক্ষ্য।
ইসরাইলের এসব পরিকল্পনাকে ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করেন মোহামুদ। তাঁর অভিযোগ, ইসরাইল একটি অস্থিতিশীল শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না। এসব বক্তব্য তাঁর নিজস্ব অভিযোগ ও মূল্যায়ন।
সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইলের স্বীকৃতিরও সমালোচনা করেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া সোমালিল্যান্ডকে ইসরাইল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে কোনো জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র অঞ্চলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখনো সোমালিল্যান্ডকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।
ইসরাইলের স্বীকৃতির পর সোমালিয়া অভিযোগ করে আসছে, ইসরাইল সোমালিল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে চাইছে। অন্যদিকে সোমালিল্যান্ড এর আগে ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে ‘কূটনৈতিক’ বলে উল্লেখ করে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে।
সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মোহামুদ। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো সোমালিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁর দাবি, আল-শাবাব বর্তমানে বড় শহরগুলোতে উপস্থিত নেই এবং সোমালিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো অবস্থায়ও নেই।
ইথিওপিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সোমালিয়ার বন্দর ব্যবহার করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইথিওপিয়াকে সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে ২০২৪ সালে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সমুদ্রপথ ব্যবহারের বিষয়ে ইথিওপিয়ার চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং সোমালিয়া তখন সেটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছিল।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিদেরও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেন মোহামুদ। তাঁর অভিযোগ, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুথিদের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক