এক বছরে দুটি ঈদ ও একবার হজ—শৈশব থেকে মুসলিমরা এমনটাই জেনে এসেছেন। তবে ২০৩৯ সালে এই পরিচিত ধারায় ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে। ওই বছর একই ইংরেজি বর্ষে দুবার হজ এবং তিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দেখা মিলবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদ।
এর মূল কারণ হিজরি চান্দ্র বর্ষ ও ইংরেজি সৌরবর্ষের মধ্যে দিনের ব্যবধান। হিজরি বছর চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভরশীল এবং এতে সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন থাকে। অন্যদিকে সৌরবর্ষ ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনের। ফলে প্রতি বছর হিজরি তারিখ সৌরবর্ষের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।
এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুতেই আসবে প্রথম ঈদুল আজহা। ৬ জানুয়ারি ১০ জিলহজ পড়বে, যা হজের শেষ দিন এবং কোরবানির ঈদ। এরপর চান্দ্র বর্ষের হিসাবে প্রায় এক বছর পর আবার হজের সময় ফিরে আসবে।
বছরের শেষ দিকে ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বার ১০ জিলহজ পড়ার কথা রয়েছে। সেদিন হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা। অর্থাৎ ২০৩৯ সালের একই সৌরবর্ষে মক্কায় দুবার হজের সুযোগ তৈরি হবে।
দুটি হজের মাঝখানে পড়বে ঈদুল ফিতর। হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হতে পারে। ফলে ওই সৌরবর্ষে দুটি ঈদুল আজহা ও একটি ঈদুল ফিতর—মোট তিনটি ঈদ পালিত হবে।
দুবার হজের সঙ্গে দুবার আরাফার দিনও আসবে। হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে ইবাদত ও দোয়া করেন।
এ ধরনের ঘটনা সম্ভব হচ্ছে মূলত চান্দ্র ও সৌরবর্ষের দৈর্ঘ্যের পার্থক্যের কারণে। একই কারণে ২০৩০ সালেও একই ইংরেজি বছরে দুবার রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি রমজান শুরু হবে জানুয়ারিতে, অন্যটি ডিসেম্বরে।
এর আগে ১৯৯৭ সালেও একই ইংরেজি বছরে দুবার রমজান শুরু হয়েছিল। প্রায় ৩৩ বছর পর ২০৩০ সালে আবারও এমন ঘটনা ঘটবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক