রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হককে তাঁর দপ্তরের চেয়ারে বসিয়ে দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যকে তাঁর দপ্তরে নিয়ে যান মন্ত্রী।
এ সময় উপাচার্যের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, যারা এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক আচরণ করেছে, তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই; তারা সমাজের শত্রু।
মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। উপাচার্যকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি সাহস ধরে থাকেন। রাজশাহীকে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে হেনস্তা করে জোর করে একটি কাগজে সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁর কক্ষে ঢুকে একটি কাগজে সই করতে বলে। কাগজটি তাঁকে পড়তে দেওয়া হয়নি। সই না করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তাতে সই করেন। তাঁর ধারণা, সেটি ছিল পদত্যাগপত্র।
উপাচার্যের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার (অর্থ) নাজমুল হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাঁকেও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে উপাচার্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া দপ্তরের কম্পিউটারের সিপিইউ, সিসিটিভি ক্যামেরার সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি দপ্তরে তালা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, সরঞ্জাম চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপাচার্যকে তাঁর উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে উপাচার্যের দপ্তরের তালা খোলা হয়। রাতে ভূমিমন্ত্রী তাঁকে দপ্তরে নিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় প্রকল্প মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের ভালো আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের পক্ষে সীমিত সময়ে অনেক রোগী দেখা সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসকদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল এলাকায় বেশি করে গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতে কেউ অপকর্মের চেষ্টা করলে দল-মত বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।
দপ্তরে বসার পর উপাচার্য জাওয়াদুল হক জানান, ঘটনার পরপরই তিনি ভূমিমন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাঁরা সবাই তাঁকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি ও মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জি বাংলা ডেস্ক