যশোরের নদী ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় যশোরের ক্রাইস্ট চার্চ ট্রেড স্কুলের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যশোর জেলা শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী, খাসজমি ও পুকুর দখলকারীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করবে। দখলদারদের কাছ থেকে উন্মুক্ত জলাশয় উদ্ধার করে জনগণের ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে মানুষ সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাস করতে পারে।
খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কেশবপুরে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে এবং হৈবতপুরে কাজ শেষ হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে যশোরের প্রতিটি উপজেলার প্রয়োজনীয় সব খাল পুনঃখননের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যশোর সদর, অভয়নগর, কেশবপুর ও মণিরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। পানিসম্পদ, কৃষি ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সমাধান খোঁজা হবে।
ঐতিহাসিক যশোর-বেনাপোল সড়কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সড়ক উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়নের সময় সড়কের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন গাছগুলো রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ও জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করলে পরিবেশদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখা সম্ভব। ডেসকোর মাধ্যমে উত্তরখানে চালু হওয়া পাইলট প্রকল্প সফল হলে তা পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
সম্মেলনে যশোরের পরিবেশ সুরক্ষা, খাল পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং পরিবহন খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
বাপা যশোর জেলা শাখার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আজিজুল হক মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং বাপার কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ তালুকদারসহ স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।
জি বাংলা ডেস্ক