ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায় বিএনপি: আমান ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ ‘গাজায় নামমাত্র যুদ্ধবিরতি আছে, বাস্তবে নেই’ দিল্লিতে মেট্রো-ট্রেন বন্ধ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে আবেদন সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, সমঅধিকারের পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন বাবরি মসজিদ বানাতে চাওয়া হুমায়ুনের আসনে বিজেপির জয় ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’ ‘অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত’ ‘বিদেশি শক্তির’ ইন্ধনে দেশ অস্থিতিশীল করছে তেলাপোকারা : বিজেপি ‘ট্রেন বাতিল করে ভারতের যুবসমাজকে আটকানো যাবে না’ ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে আটক অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়েও নিজেকে বাঁচাতে পারল না তাজমীন রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫২৩ হজ এজেন্সিকে জরুরি নির্দেশনা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ১ রান করেই অদ্ভুতভাবে উদযাপন করলেন লিটন শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর ময়মনসিংহ মেডিকেলে ডেঙ্গুতে দুই নারীসহ তিনজনের মৃত্যু ‘তোমাদের হাত ধরেই এগোবে বাংলাদেশ’

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা

  • আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০১:০২:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০১:০২:৫৩ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা। ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামী প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। একই নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম হয়েছেন সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। এ বিভাগে মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি ৯৬ দশমিক ৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে ৯ অক্টোবর শেষ হয়। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) আয়োজিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

হিরার সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাঁরা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রতিযোগিতার নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা ৯১ দশমিক ৮৩ নম্বর পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি ৯১ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি ৯০ দশমিক ৮৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান ৯৪ দশমিক ৬৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন। মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি ৯২ দশমিক ৯৯ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব ৯২ দশমিক ১৭ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

নারীদের হিফজ বিভাগে নাইজারের চাফাতু ইসুফু ৯৬ দশমিক ১৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন। লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ ৯৫ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং মিয়ানমারের থেইন গি মোন ৯৫ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাসও দীর্ঘ। বিভিন্ন সংস্থার সংরক্ষিত তথ্য সমন্বয় করে দেখা যায়, ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোট ৪৩ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। একই হাফেজ একাধিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিজয়ীর সংখ্যা ও প্রথম স্থান অর্জনের সংখ্যা এক নয়।

এই ধারাবাহিকতার সূচনা হিসেবে ১৯৮২ সালে লিবিয়ায় কারি আবদুল হকের প্রথম স্থান অর্জনের কথা উল্লেখ করা হয়। হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রথম হাফেজ তিনি।

এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ ও ইরানে ফরিদ আহমদ চ্যাম্পিয়ন হন। ২০০০ সালে মিশরে নাবিল ওয়ালিদ, ২০০১ সালে ইব্রাহিম বিন হেলাল, ২০০২ সালে জর্ডানে হোসাইন আহমাদ এবং ২০০৩ সালে মিশরে আবদুল কাদির প্রথম স্থান অর্জন করেন।

২০০৭ সালে দুবাইয়ে এবং ২০০৯ সালে মিশরে প্রথম হন ফজলে রাব্বি আদেল। ২০১০ সালে জর্ডানে মো. সাইফুল ইসলাম এবং ২০১১ সালে ইরানে হাফেজ সালাহউদ্দিন চ্যাম্পিয়ন হন।

২০১২ সালে সৌদি আরবে পৃথক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. তানভীর হোসাইন, এহসান উদ্দিন নোমান ও মুহাম্মদ সাদ সুরাইল। ২০১৩ সালে সৌদি আরবে মো. ইমাদুল্লাহ, জর্ডানে ফারিয়া তাসলিম এবং দুবাইয়ে হাফেজ নাজমুস সাকিব প্রথম হন। ২০১৪ সালে সৌদি আরবে নাজমুস সাকিব এবং মিশরে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

২০১৫ সালে সুদানে নাজমুস সাকিব, মিশরে পৃথক বিভাগে নাহিয়ান কায়সার ও মুহিব্বুল্লাহ এবং জর্ডানে সাঈদ হাসান প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০১৬ সালে তুরস্কে আবদুল আখের এবং বাহরাইনে হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া চ্যাম্পিয়ন হন।

২০১৭ সালে সৌদি আরব ও মিশরে আবদুল্লাহ আল মামুন এবং দুবাইয়ে তারিকুল ইসলাম প্রথম হন। ২০১৮ সালে মিশরে মুজাহিদুল ইসলাম এবং ২০১৯ সালে জর্ডানে মো. সাইফুর রহমান ত্বাকী চ্যাম্পিয়ন হন। ২০২১ সালে ইরান এবং ২০২৩ সালে দুবাইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিম।

২০২৪ সালে ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম হন। একই বছর সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেন মুআজ মাহমুদ।

২০২৫ সালে মিশরে প্রথম হন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্যে ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের হাফেজদের ৩৭টি প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য রয়েছে। এর বাইরে ১৯৮২ সালের কারি আবদুল হকের সাফল্য এবং কয়েকটি প্রতিযোগিতার ফলাফলের তথ্য হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশ থেকে পাওয়া গেছে। এসব উৎসের তথ্য সমন্বয় করে মোট ৪৩টি প্রথম স্থান অর্জনের হিসাব দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের ধারাবাহিক সাফল্য দেশের কুরআন শিক্ষার দীর্ঘদিনের অর্জনকে তুলে ধরে। এই সাফল্য ধরে রাখতে তাজবিদ, ওয়াকফ-ইবতিদা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের এহতিশামুল হক হিরা