বিশ্ববাজারে ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) সরবরাহে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী পিসি সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৮১ লাখ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটার সরবরাহ কমেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, তৃতীয় প্রান্তিকে ডেস্কটপ কম্পিউটার সরবরাহ ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ কোটি ১৭ লাখ ইউনিটে নেমেছে। অন্যদিকে, নোটবুক কম্পিউটার সরবরাহ কমেছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ইউনিটে।
ওমডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যাপল প্রায় ৬৭ লাখ ৭৪ হাজার ম্যাক সরবরাহ করেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ করেছিল প্রায় ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার ইউনিট। সরবরাহ কমলেও বৈশ্বিক পিসি বাজারে অ্যাপলের অংশীদারত্ব ১০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। এতে বাজারে চতুর্থ অবস্থান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পিসি সরবরাহে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে লেনোভো। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ইউনিট কম্পিউটার সরবরাহ করেছে, যা বৈশ্বিক বাজারের ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এইচপির সরবরাহ ৩১ শতাংশ কমে ১ কোটি ৩ লাখ ইউনিটে নেমেছে। প্রতিষ্ঠানটির বাজার অংশীদারত্বও কমে ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।
তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা ডেল প্রায় ৭৬ লাখ ইউনিট কম্পিউটার সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বাজার অংশীদারত্ব ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, আসুস প্রায় ৫৪ লাখ ইউনিট সরবরাহ করে শীর্ষ পাঁচে জায়গা ধরে রেখেছে। বড় নির্মাতাদের মধ্যে আসুসের সরবরাহ কমার হার ছিল সবচেয়ে কম—৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
ওমডিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, বছরের প্রথমার্ধে আগাম কেনাকাটার কারণে পিসির চাহিদা বেড়েছিল। সেই চাহিদা কমে আসার পাশাপাশি মেমোরি ও স্টোরেজ যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্মাতারা পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে ক্রেতাদের কেনাকাটায়।
ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক বেন ইয়ে জানান, পিসি তৈরির মোট ব্যয়ের মধ্যে ডিআরএএম মেমোরি ও সলিড-স্টেট ড্রাইভের (এসএসডি) অংশ আগে প্রায় ১৫ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। এসব যন্ত্রাংশের দামও আগের তুলনায় চার গুণের বেশি বেড়েছে। নির্মাতারা কয়েক দফায় দাম বাড়ালেও অতিরিক্ত ব্যয়ের পুরোটা সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি।
এর সঙ্গে প্রসেসর, গ্রাফিকস কার্ড ও অন্যান্য সমন্বিত সার্কিটের ঘাটতি সরবরাহব্যবস্থায় আরও চাপ তৈরি করেছে। বিক্রি কমে যাওয়া এবং বাজারে অবিক্রীত পণ্যের মজুত বেড়ে যাওয়ায় নির্মাতারাও উৎপাদন কমাতে শুরু করেছেন।
২০২৭ সালেও সংকোচনের আশঙ্কা
পিসি বাজারের নিম্নমুখী প্রবণতা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওমডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বিশ্ব পিসি বাজারে সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমতে পারে। ২০২৭ সালজুড়ে বাজার আরও ৭ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ওমডিয়ার গবেষণা পরিচালক ইশান দত্তের মতে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পিসি সরবরাহ কমার বিষয়ে বড় নির্মাতারা আগেই সতর্ক করেছিলেন। যন্ত্রাংশের বাড়তি ব্যয় এখন খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলছে। ফলে ক্রেতারা কেনাকাটা কমাচ্ছেন এবং নির্মাতারা উৎপাদন ও মজুত নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
আইটি ডেস্ক