ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দুই যুবককে জাল ভিসায় বিদেশে পাঠানোর অভিযোগে দায়ের করা মানবপাচার মামলায় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. কামাল হোসেন (৪৭)। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বড়াইয়া, কৃষ্ণপুর এলাকায়। গত ১১ অক্টোবর রাত ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী ও তাঁর পরিচিত আরেক যুবককে ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দেশটিতে পাঠানোর আশ্বাস দেয় একটি মানবপাচার চক্র। এ জন্য প্রত্যেকের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা করে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুই যুবক অভিযুক্তদের বিভিন্ন সময়ে মোট ৪০ লাখ টাকা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ মে দুই যুবককে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ইতালি যাওয়ার জন্য টিকিট ও ভিসা দেওয়া হয়। তাঁরা ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁদের পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট যাচাই করে। এ সময় পাসপোর্ট সঠিক থাকলেও তাতে সংযুক্ত ইতালির শেনজেন ভিসা জাল বলে জানানো হয়। পরে তাঁদের আটক করা হয় এবং ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
দেশে ফিরে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনার বিস্তারিত জানান। এ ঘটনায় বাদী গত ৩০ মে ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন।
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কামাল হোসেনকে শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অর্থের লেনদেন ও বণ্টন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ।
জি বাংলা ডেস্ক