গাজীপুরের টঙ্গীর স্কুইব রোডের পাশে অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ইউনিট-২-এ লাগা আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেছেন, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় আগুন নির্বাপণের কাজ শেষ হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টঙ্গীর ইনচার্জ শাহীন আলম যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আগুন লাগার প্রথম দিকে পানির স্বল্পতার কারণে নির্বাপণকাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে।
বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে টঙ্গী শিল্প এলাকায় অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের দ্বিতীয় ইউনিটে আগুন লাগে। প্রথমে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আগুনের ব্যাপকতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
খবর পেয়ে টঙ্গী, সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, এসআরবি, বিজিবি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদস্যরা কাজ করেন। মোট ২১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঘটনাস্থল ঘিরে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় গণপরিবহন চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মীসহ পাঁচজন অসুস্থ হন।
দুপুর ২টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, সাততলা ভবনের চতুর্থ ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। ইনজেকশনসহ জরুরি ওষুধে আগুন লাগার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরিভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। মোট ২১টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বাদল বলেন, কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও আগুনের তীব্রতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়। তিনিও আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তা গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনি সাংবাদিকদের বলেন, শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
রনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ও দলীয় নেতাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। তাঁদের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং উদ্ধার ও নির্বাপণকাজে সহযোগিতা করেছেন।
গাজীপুরে পর্যাপ্ত পানির উৎস তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুকুর, জলাশয় ও খালবিল পরিষ্কারের কাজ চলছে। কোথাও আগুন লাগলে যেন পানির অভাব না হয়, সে জন্য পানির উৎসগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এ সময় তাঁর সঙ্গে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন এবং গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সাথীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জি বাংলা ডেস্ক