মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
দেশগুলো হলো—ইসরাইল, সৌদি আরব, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইয়েমেন ও ইরান।
গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো একই ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। এসব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে ফ্লাইট বাতিল, আকাশপথ বন্ধ এবং ভ্রমণব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। সংঘাত দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের আগেভাগেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাতে পারে। এর মধ্যে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছে। দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটছে এবং ভ্রমণব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস রোববার দেশটিতে থাকা নাগরিকদের সরকারি সতর্কবার্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ও বড় জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
ভ্রমণ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। কাতার এয়ারওয়েজ সোমবার জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী এবং সেখান থেকে আসা ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এ ছাড়া জেদ্দাগামী ফ্লাইটের সংখ্যা দৈনিক সাতটি থেকে কমিয়ে চারটিতে আনা হয়েছে।
সূত্র: ইউরো নিউজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক