আন্তর্জাতিক বিষয়ক অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও সিএনএনের প্রধান আন্তর্জাতিক অ্যাঙ্কর ক্রিস্টিয়ান আমানপুর আগামী বছরের জুনে প্রতিষ্ঠানটি ছাড়ছেন। সম্প্রচার সাংবাদিকতায় ৪৩ বছর কাটানোর পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে সিএনএন ছাড়াকে অবসর নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন এই সাংবাদিক।
সম্প্রতি এক ঘোষণায় সিএনএন ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান আমানপুর। গত সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “অনেক মাস ধরে চিন্তাভাবনা এবং কয়েকটি নির্ঘুম রাত কাটানোর পর আমি সিএনএন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটি ছিল আমার ৪৩টি অসাধারণ বছরের সঙ্গী।”
সিএনএন ছাড়লেও সাংবাদিকতা থেকে সরে যাচ্ছেন না আমানপুর। সামনে নতুন কিছু প্রকল্প নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে সিএনএনের স্বাধীন সাংবাদিকতার ঐতিহ্যের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকতার নীতি নিয়ে সহকর্মীদের উদ্দেশে আমানপুর বলেন, “মনে রাখবেন, সব সময় সত্যনিষ্ঠ হতে হবে, নিরপেক্ষ নয়।”
সিএনএনে দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে বসনিয়া, রুয়ান্ডা, আফগানিস্তান, ইউক্রেন ও ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতের খবর সংগ্রহ করেছেন তিনি।
আমানপুর বলেন, এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা বন্ধনও তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা একসঙ্গে সত্য, প্রমাণ ও মানবিকতার সন্ধানে কাজ করেছেন, যাতে সিএনএন নির্ভয়ে এবং পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরতে পারে।
২০০৯ সাল থেকে সিএনএন ইন্টারন্যাশনালে নিজের নামে প্রচারিত সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে আসছেন আমানপুর। সিএনএন ছাড়ার পরও পডকাস্ট অনুষ্ঠান ‘দ্য এক্স ফাইলস’-এর সহ-উপস্থাপনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এ অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে থাকবেন সাবেক স্বামী জেমি রুবিন।
কে এই ক্রিস্টিয়ান আমানপুর
ক্রিস্টিয়ান আমানপুরের জন্ম পশ্চিম লন্ডনের ইলিংয়ে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ তাকি আমানপুর ছিলেন ইরানি এবং মা অ্যান প্যাট্রিসিয়া হিল ছিলেন ব্রিটিশ। শৈশবের একটি বড় অংশ তিনি ইরানের তেহরানে কাটান। ১১ বছর বয়সের পর তাঁকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেন।
ইংল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে ইরানে ফিরে গেলেও ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময় তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়। পরে আমানপুর রোড আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি স্থানীয় রেডিও ও টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন আমানপুর। সিএনএনের পাশাপাশি তিনি সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া পিবিএসে ‘আমানপুর অ্যান্ড কোম্পানি’ উপস্থাপনা করেছেন এবং এবিসির রোববারের সকালের অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এর সঞ্চালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংঘাত, মানবিক সংকট ও বিশ্বরাজনীতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে সম্প্রচার সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন আমানপুর।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক