জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা। একই সঙ্গে উচ্চকক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের শিক্ষক ও উচ্চ আদালতের আইনজীবীরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ ও গঠন ছাড়াও সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় প্রস্তাব দেওয়া হয়, নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও উচ্চকক্ষ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
এ ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষে উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাঁকে স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব আসে। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাঁকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
একইভাবে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়েও বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। কয়েকজন আলোচক প্রস্তাব করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষে ৫০টি আসন এবং নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে বাকি ৫০টি আসন বণ্টন করা যেতে পারে।
এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।
দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়েও মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
তবে দেশের বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন আলোচক। উচ্চকক্ষের পরিবর্তে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবও আসে।
ফলে সংসদের দুই কক্ষের মেয়াদ, উচ্চকক্ষের গঠন এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতিসহ আলোচ্য বিষয়গুলোতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
জি বাংলা ডেস্ক