সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের পক্ষে নিজেই লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার ছেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে বাবার ইচ্ছার কথা জানান।
জানা গেছে, কোনো আইনজীবী নিয়োগ না করে নিজেই আত্মপক্ষ সমর্থন করতে চান শামসুল হক টুকু। এ জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের জন্য মৌখিক আবেদন করেন তার ছেলে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর শাপলা চত্বরের মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, শামসুল হক টুকু পেশায় একজন আইনজীবী। তার ছেলে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, যাতে মামলার আগের রেকর্ড ও ওকালতনামা যাচাই করা যায়।
তিনি বলেন, টুকুর পক্ষে অন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগের তথ্য না থাকলে আইনজীবী হিসেবে তিনি নিজেই মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে আগে কোনো আইনজীবী ওকালতনামা দিয়ে থাকলে নিয়ম অনুযায়ী ওই আইনজীবীর মাধ্যমেই নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
শাপলা চত্বরের মামলা
২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি চলছে। এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু।
আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১৭ ধারায় বিচার চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ, নিজে আত্মপক্ষ সমর্থন করা অথবা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার অধিকার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রমাণ-সাক্ষ্য উপস্থাপন ও প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের জেরা করার সুযোগ রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার