ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার পর কৌশলগত ওই অঞ্চলে ইরানের তৎপরতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আইনের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইরানি বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করেছেন।
সম্প্রতি হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দখল করে। এর মধ্যে মোকা বন্দর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের অঞ্চল রয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইতোমধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আল-আইনের প্রতিবেদনে নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকাকে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সরবরাহের পথ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আওসাত জানিয়েছে, দুই হুথি সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষজ্ঞরা বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দর এবং মোকা এলাকার জাবাল আল-নার ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। তারা পাহাড়ি এলাকায় টানেল খননের কাজ পর্যবেক্ষণ এবং মোকা ও জুকার দ্বীপের কাছে রাডার স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
আল-আইনের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সোমালিয়ার উপকূল থেকে ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাচ্ছে। হোদেইদাভিত্তিক রেড সি ফিশারিজ অথরিটির প্রধান হাসান আল-আত্তাস এসব চালান তদারক করছেন বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, আল-আত্তাসের নেতৃত্বে একটি চোরাচালান নেটওয়ার্ক কাজ করছে এবং সমুদ্রপথে ইরান থেকে আসা সামরিক সরঞ্জাম হোদেইদায় পৌঁছে সেখান থেকে হুথিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
পশ্চিম উপকূলে হুথিদের অবস্থান
সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও বাব আল-মান্দেবের আশপাশে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে মোকা, ধুবাব ও পেরিম দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
আল-আইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দখল করা এলাকা ধরে রাখতে হুথিরা পাহাড়ি এলাকায় পরিখা ও নতুন সামরিক অবস্থান তৈরি করছে। হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছে জুকার দ্বীপেও তাদের তৎপরতা বাড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের আশপাশে রাডার ও সামরিক স্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে হুথিরা ওই জলপথে নিজেদের নজরদারি ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরানি রাডার স্থাপন, অস্ত্র পাচার এবং চোরাচালান নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে এসব তথ্যকে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রতিবেদনের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক