সারাদিন ক্লান্তি, অবসাদ বা ঝিমুনি ভাব থাকলে অনেকেই বারবার কফি পান করেন। তবে ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতি দিলেও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে না। শরীরের স্বাভাবিক শক্তি উৎপাদন ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, কপার ও বি ভিটামিনের মতো পুষ্টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদানের কিছু কালো তিলে পাওয়া যায়।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ পুজা মালহোত্রার মতে, পরিমিত পরিমাণে কালো তিল দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে। এতে আয়রন ও কপারসহ বিভিন্ন খনিজ এবং বি-ভিটামিন রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান রক্তকণিকা তৈরি, শক্তি বিপাক, পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
তবে শুধু কালো তিল খেলেই দীর্ঘদিনের ক্লান্তি দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও শরীরের শক্তি ও সতেজতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় কী বলা হয়েছে?
কিছু গবেষণায় তিলবীজের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। কালো তিলে থাকা সেসামিন ও সেসামোলিনের মতো যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। কিছু গবেষণায় তিলজাত খাবারের সঙ্গে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের নির্দিষ্ট সূচক এবং রক্তচাপের পরিবর্তনের সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
তবে এসব গবেষণার ফল থেকে কালো তিল সরাসরি ক্লান্তি দূর করে বা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি বাড়ায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
কীভাবে খাবেন?
পুজা মালহোত্রার পরামর্শ অনুযায়ী, কালো তিল হালকা ভেজে গুঁড়া করে খাওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন প্রায় এক টেবিল চামচ বা ১০–১২ গ্রাম তিল খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
সকালের খাবারে এটি যোগ করার কয়েকটি সহজ উপায় হলো—
উষ্ণ পানীয়: হালকা ভাজা ও গুঁড়া করা কালো তিল উষ্ণ দুধ বা বাদামের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। স্বাদ অনুযায়ী সামান্য মধু যোগ করা যেতে পারে।
স্মুদি বা দইয়ের সঙ্গে: গ্রিন স্মুদি, দই কিংবা সকালের পোরিজের ওপর ভাজা কালো তিল ছড়িয়ে খাওয়া যায়।
এনার্জি বল: ভাজা কালো তিলের সঙ্গে খেজুর মিশিয়ে ছোট বল তৈরি করা যায়। এতে অতিরিক্ত চিনি না দিয়েও একটি পুষ্টিকর নাশতা তৈরি করা সম্ভব।
কারা সতর্ক থাকবেন?
বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য খাবার হিসেবে পরিমিত তিল সাধারণত নিরাপদ। তবে তিলে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলতে হবে।
কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত বেশি পরিমাণ তিল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তিলের ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পরিমাণের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
আর দীর্ঘদিন ধরে অকারণে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকলে শুধু কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, থাইরয়েডের অসুবিধা, সংক্রমণসহ বিভিন্ন কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে।
জি বাংলা ডেস্ক