মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কায়রোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ইরান, গাজা ও সুদানের যুদ্ধ পরিস্থিতি, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে সিসি আঞ্চলিক সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন। ইরান সংকটের অবসানে একটি সমন্বিত চুক্তির প্রতি মিসরের সমর্থনের কথাও জানান তিনি। এমন চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে বলে মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে।
গাজা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সিসি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং গাজায় পর্যাপ্ত ও টেকসই মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
সুদান প্রসঙ্গে সিসি দেশটির সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি মিসরের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। যুদ্ধ বন্ধ, মানবিক সংকট কমানো এবং রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে কায়রোর কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে র্যাটক্লিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুভেচ্ছা সিসির কাছে পৌঁছে দেন। তিনি আঞ্চলিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মিসরের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ওয়াশিংটন-কায়রোর ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রাখার কথা জানান। সিআইএ ও মিসরের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতার বিষয়ও আলোচনায় আসে।
র্যাটক্লিফের কায়রো সফরের কয়েক দিন আগে মিসরে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সিসির বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকে ইয়েমেন পরিস্থিতি এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে নিরাপদ নৌ চলাচলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের সংঘাতকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মিসর দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। ইসরায়েল, হামাস, ইরানসহ পরস্পরবিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবেও দেশটির ভূমিকা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে র্যাটক্লিফের কায়রো সফরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক