রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ভাঙচুরে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী লুট করা হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
নাসরিন আখতারের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্থাপনার সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ লেখা একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়ে যায়। তাঁর দাবি, মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা-শিশুদের বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান সেবা দিয়ে আসছে।
রাড্ডার পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে।
জি বাংলা ডেস্ক