ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ৬ লেনের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী জ্ঞান, দক্ষতা ও যোগ্যতায় নিজেদের প্রমাণ করতে হবে: গোলাম পরওয়ার প্রাথমিকে নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ধরলেন প্রাইমারি শিক্ষক পদে ‘নিয়োগবঞ্চিতরা’ শহরে অশান্তি হলে আমি ছেড়ে দেব না: জ্বালানিমন্ত্রী আমার লড়াই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের আর কোনো ঠাঁই নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাতির কানে আজান শুনিয়েছেন নানা পাটেকার, যা জানা গেল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে ইরান ৭০ বছরে ক্রিকেট খেলে বিশ্বরেকর্ড উল্টোপথে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল মা-মেয়ের মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: পরিবেশমন্ত্রী কালো গাউনে বাজিমাত রাশমিকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরে পুলিশের গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট জাসদ কার্যালয় থেকে সাংবাদিক নেতা আটক লাল কার্ড দেখিয়ে চুয়েটের নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান জীবনে ট্রল করার মতো কিছু করিনি, যারা এসব করে তারা ফালতু লোক: ওমর সানী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা সীমান্তে ৫৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প, সামনে কী ঘটতে চলেছে?

মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: পরিবেশমন্ত্রী

  • আপলোড সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন
মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে: পরিবেশমন্ত্রী আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হাতি সংরক্ষণ: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মানুষ ও হাতির নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, হাতি সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণীর সংখ্যা রক্ষার বিষয় নয়। এর সঙ্গে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর, পরিবেশের ভারসাম্য এবং হাতির সঙ্গে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকার বিষয়ও জড়িত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘হাতি সংরক্ষণ: বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), আইইউসিএন বাংলাদেশ, ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স, অরণ্যক এবং দীপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বন্য হাতি দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে বর্তমানে তাদের অস্তিত্ব গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে। দেশে বন্য হাতির চলাচল প্রধানত শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বেশি।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে দেশে আনুমানিক ২৬৮টি হাতি ছিল। বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৪৬টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সংকুচিত হওয়া, বন উজাড়, খাদ্যের সংকট, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদের মতো বিভিন্ন কারণে মানব-হাতি সংঘাত বাড়ছে। হাতি লোকালয় বা কৃষিজমিতে প্রবেশ করলে মানুষ ও হাতি উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, সংঘাতের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর রক্ষা, সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। সংরক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এশীয় হাতির চলাচলের জন্য বিস্তৃত এলাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ফলে হাতি সংরক্ষণ একটি জটিল কাজ এবং এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য বন অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সংরক্ষণ সংস্থা, গবেষক এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় হাতি শিকার ও পাচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব এলাকায় নজরদারি জোরদারে বন অধিদপ্তর ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে সীমান্ত সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার সময়ই হাতির ঐতিহ্যগত চলাচলের পথ বিবেচনায় নিতে হবে। হাতিসহ অন্যান্য বৃহৎ বন্যপ্রাণীর নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থাও রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

বন্দি হাতির কল্যাণ প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বন্দি হাতির লাইসেন্স, সংখ্যা ও অবস্থার যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণের নামে হাতিকে শিকলে রাখা, প্রহার ও নির্যাতনের অভিযোগ এবং সার্কাসসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের বিষয়গুলো যথাযথ আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

মানুষের তত্ত্বাবধানে থাকা হাতির জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

হাতি সংরক্ষণে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডোর সুরক্ষা, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মানব-হাতি সংঘাত কমানো, বন্দি হাতির সংখ্যা, অবস্থান, লাইসেন্স ও কল্যাণের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংরক্ষণ সংস্থা, গবেষক, আইন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা হবে।

সাবেক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, পক্ষীবিদ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আলী রেজা খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম।

এ ছাড়া সভায় আয়োজক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, পরিবেশবিদ, সংরক্ষণকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ, হাতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সম্পৃক্ত বিভিন্ন অংশীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : gbanglanews

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ৬ লেনের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ৬ লেনের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী