মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ক্যাশ কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগ ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে আলোচিত অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন সোহাগ। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অপর ক্যাশ কর্মকর্তা জিন্নাহ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে সঞ্চিত আমানত খোয়া যাওয়ার খবর পেয়ে মঙ্গলবারও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা শ্রীনগর শাখায় ভিড় করেন। এদিন নতুন করে আরও ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগের দুই দিনে ২৩০টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। সব মিলিয়ে তিন দিনে প্রায় আড়াই শতাধিক গ্রাহক অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন।
এদিকে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ব্যাংকের অডিট কমিটির তদন্ত চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়মের পেছনে শুধু সোহাগ ও জিন্নাহ নন, ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন। পুরো চক্র শনাক্ত এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল মিয়া গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, থানা-পুলিশের একটি দল মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার সৌরভ সমাদ্দারও অভিযুক্ত ক্যাশ কর্মকর্তা সোহাগের গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জি বাংলা ডেস্ক