পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে হঠাৎ বেরিয়ে গেছেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কোপেনহেগেনে দলের নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের সংবাদ সম্মেলনের পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে কথা বলার পর বুধবার ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এ ঘটনায় রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রোনালদো বলেন, জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং এফপিএফ সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতীয় দল ছাড়ার পেছনের কারণ যথাসময়ে পর্তুগালের মানুষকে জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে পর্তুগাল ও সতীর্থদের শুভকামনা জানান।
রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছিল। জেসুস সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর সঙ্গে কোনো বড় ধরনের বিরোধের কথা অস্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, নরওয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে রোনালদোকে বদলি হিসেবে না নামানোর সিদ্ধান্তের পর কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছিল।
এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন রোনালদো। পরবর্তী ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষেও তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে না—কোচের এমন বক্তব্যের পরই তিনি ক্যাম্প ছাড়েন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘ও জোগো’ দাবি করেছে, জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর আর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা নেই এবং ওয়েলসের বিপক্ষে ২৪ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটিই ছিল তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তবে রোনালদো নিজে এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা পুরুষ ফুটবলার। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই রেকর্ডগুলো তাঁর দখলেই রয়েছে বলে জানিয়েছে উয়েফা।
রোনালদোর পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে ক্যাম্প ছাড়ার পর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।