যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের শ্রমবাজার ধরে রাখার পাশাপাশি সামনে আরও ভালো ফলাফল পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের উদ্বোধন ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা, চাহিদা ও বিভিন্ন ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের অবশ্যই দক্ষ হয়ে বিদেশে যেতে হবে। দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারলে শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাখ লাখ কর্মী পাঠিয়ে দেশের প্রকৃত কোনো লাভ হবে না।
প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। এরই মধ্যে চিকিৎসাকেন্দ্রের জন্য স্থান নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের যাতায়াত ও অবস্থানের সুবিধার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক সময় সময়সূচি বিপর্যয় বা ফ্লাইট বিলম্বের কারণে প্রবাসী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। বিমানবন্দরটি শহর থেকে দূরে হওয়ায় তাদের থাকা-খাওয়ার সমস্যাও বাড়ে। এ সমস্যা দূর করতে বিমানবন্দরের পাশে রেস্ট হাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যাত্রীরা যেকোনো পরিস্থিতিতে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারবেন।
পরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে শ্রমবাজারে আরও ভালো ফলাফল দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের আইনি সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা একটি প্রস্তাব দেন। মন্ত্রী প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।