চাঁদপুরে মা ইলিশ ধরলে ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাতিল হবে জেলে কার্ড

আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ১২:০০:৩৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ১২:০০:৩৪ অপরাহ্ন

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলেদের জেলে কার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালের মুখ বন্ধ করা এবং অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীপথে নজরদারি জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চেকপোস্ট স্থাপন এবং অভিযানের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব জেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে নামবেন না এবং মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকবেন, তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। চাঁদপুর জেলায় এ সহায়তা পাবেন ৪১ হাজার ৩৯০ জন জেলে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

‘ইলিশের বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত চাঁদপুরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, টাস্কফোর্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয় থাকলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল হবে।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

অভয়াশ্রম এলাকায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন বরফকল বন্ধ রাখা হবে। এ সময় নদীতে কোনো ধরনের ড্রেজার মেশিন চলতে দেওয়া হবে না। চাঁদপুরের বাইরে থেকে আসা জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি থাকবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, অভয়াশ্রম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ৮ থেকে ৯টি খালের মুখ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগ কমবে এবং অভিযান বাস্তবায়ন সহজ হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেলা পুলিশের উদ্যোগে চেকপোস্ট বসানো হবে। অভিযানের সময় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে।

সভায় অভয়াশ্রম এলাকায় মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় নৌ পুলিশ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও জেলেদের প্রতিনিধিরা মতামত দেন।

সভায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, জেলেদের খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করা, নদীপথে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবিকা ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০