বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, আটক অর্ধ সহস্র

আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৬:৫১:২২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৬:৫১:২২ অপরাহ্ন

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা গেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিক্ষোভে যোগ দিতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় ৫০০-এর বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাসে করে দিল্লির বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা আতিশী, দিল্লি এএপির প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরা। বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভকারীদের আটক করে বদরপুর, আউটার নর্থ দিল্লিসহ বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়। পরে জনপথ এলাকাতেও কয়েকটি দল জড়ো হয়ে বিক্ষোভের চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে যেতে বাধা দেয়।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তারা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা হাতে স্লোগান দেন। ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন হওয়ায় অহিংস আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কথাও জানান কয়েকজন বিক্ষোভকারী।

দিল্লি পুলিশ এর আগে জানিয়েছিল, ২ অক্টোবরের কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিউ দিল্লি জেলায় অননুমোদিত জমায়েত ও বিক্ষোভ ঠেকাতে বিধিনিষেধও জারি ছিল।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে যন্তর মন্তর এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয় বলে দিল্লি পুলিশের সূত্র উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

ভোটার তালিকার এসআইআর নিয়ে এর আগেও দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর যন্তর মন্তরের কাছে একই ইস্যুতে বিক্ষোভ থেকে ৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।

এসআইআর নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলেছে, এ ধরনের সমালোচনায় পুরো প্রক্রিয়ার সামগ্রিক চিত্র উঠে আসে না। কমিশনের বক্তব্য, সংশোধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য বা একাধিকবার থাকা নাম শনাক্ত ও বাদ দেওয়া। কমিশন আরও জানিয়েছে, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসহ, সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে তারা ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তবে ব্যক্তিগত অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইসাপেক্ষ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০