রাজধানীতে একদিনে ৩ জনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ১০:২২:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ১০:২২:২০ অপরাহ্ন

রাজধানীর ডেমরা, কামরাঙ্গীরচর ও বংশালে পৃথক ঘটনায় তিনজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে দুজন মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ডেমরার মোছাম্মৎ পপি (৩৫), কামরাঙ্গীরচরের স্বপ্না বেগম (৩৮) ও বংশালের হাশেম (৪৮)।

ডেমরায় পপির মরদেহ উদ্ধার করা হয় হাজী বাদশা মিয়া রোডের আমার ভুবন ভবনের ১১ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে বাথরুমের ভেতর হ্যাঙ্গারের সঙ্গে সুতির গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। ডেমরা থানার এসআই মাহবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পপির স্বামী রনি জানান, গোসল করতে বাথরুমে ঢোকার পর দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে মেশিন দিয়ে দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর ভাষ্য, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়নি এবং কেন পপি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তারা বুঝতে পারছেন না। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে।

পুলিশ জানায়, পপি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। তিনি স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ওই ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

অন্যদিকে কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুর ঝাউলাহাটি চৌরাস্তা এলাকায় স্বপ্না বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়া বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বাসার ম্যানেজার টিটু জানান, প্রায় আট মাস আগে পরিবার নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন স্বপ্না। তখন থেকেই তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

স্বপ্নার স্বামী খাজা জানান, তিনি অটোরিকশাচালক। আগের রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় স্বপ্না তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেছিলেন। সকালে ছেলে ফোন করে মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার কথা জানায়। পরে বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই আরিফুল ইসলাম জানান, ছেলে-মেয়ে বাইরে থাকার সময় ফাঁকা বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বংশালের নাজিম উদ্দিন রোডের একটি ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলায় হাশেম (৪৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাত ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাশেমের ছেলে হাসিব জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। বোনের বাসায় থাকা অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি গলায় ফাঁস দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তিনটি ঘটনাতেই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ ঘটনাগুলো তদন্ত করছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০