নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটকের পর থানায় তাকে দেখতে গিয়ে তাঁর বাবাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে বাবা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষিরহাট ইউনিয়নের সাব্বির আহমদ (২১) ও তাঁর বাবা আব্দুল মান্নান (৫৮)। স্থানীয়ভাবে সাব্বিরকে চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আব্দুল মান্নানকে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এর আগে সোনাইমুড়ী বাজার থেকে সাব্বির আহমদকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হলে খবর পেয়ে বাবা আব্দুল মান্নান সেখানে যান। পুলিশের ভাষ্য, থানার সামনে তাঁর অবস্থান ও ঘোরাঘেরার পর তাঁকেও আইনের আওতায় নেওয়া হয়।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, আব্দুল মান্নান চাষিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি থানার সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ কারণে তাঁকে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
ওসি বলেন, বাবা-ছেলেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মাহমুদ বলেন, সাব্বিরকে আটকের খবর পেয়ে তাঁর বাবা থানায় দেখতে গিয়েছিলেন। পরে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল কি না, সে বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ভিন্ন দাবি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সাব্বিরকে শুধু ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে এবং বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাবা-ছেলেকে কোন নির্দিষ্ট ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। আদালতের আদেশের পর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।