‘মোদি আমার বন্ধু হয়েও প্রশ্ন তোলেন ইউক্রেনের যুদ্ধে’!

আপলোড সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১০:৪০:২৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১০:৪০:২৭ পূর্বাহ্ন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মোদি নিয়মিতভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং এ বিষয়ে ‘ভালো কিছু ধারণা’ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মোদির প্রসঙ্গ তোলেন পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, মোদি এমন নেতাদের একজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর দেশের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনের সংঘাত বন্ধের বিষয়টি বারবার উত্থাপন করেন।

পুতিন বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের একটি সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে তাঁর কিছু ভালো ধারণাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

মোদির অবস্থানকে নিরপেক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে পুতিন বলেন, সংঘাত বন্ধে তাঁর আগ্রহ রয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি যে অবস্থান নিয়েছেন, তা সরাসরি উল্লেখ করাই তাঁর দায়িত্ব বলে মনে করেন। পুতিনের এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতি মস্কোর প্রকাশ্য সমর্থনের বিষয়টি উঠে এসেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ভারত দুই দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখেছে। নয়াদিল্লি বিভিন্ন সময়ে সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেও পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মোদি সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে নয়াদিল্লির মতপার্থক্যও রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন বিবেচনা করেই দেশটির জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হলেও মস্কোর সঙ্গে ভারতের জ্বালানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর মোদি একাধিকবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একইভাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে ভারত সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে।

সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠকেও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত শান্তি প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে।

ভালদাই ফোরামে পুতিনের সর্বশেষ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং সংঘাতের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে মোদির সংলাপ ও কূটনীতিনির্ভর অবস্থানের প্রতি পুতিনের প্রকাশ্য প্রশংসা দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের আরেকটি দিক তুলে ধরেছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০