এআই-এর হাতেই ছেড়ে দেবেন নিয়ন্ত্রণ?

আপলোড সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১০-২০২৬ ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজ সহজ করে দিয়েছে। ই-মেইল লেখা, চিঠিপত্র তৈরি, নথির সারসংক্ষেপ করা কিংবা ভিডিও ও বিভিন্ন কনটেন্ট বিশ্লেষণ—অনেক কাজই কয়েক মুহূর্তে করা সম্ভব। তবে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখাও জরুরি।

এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথম বিষয় হলো, কোন কাজে এটি ব্যবহার করবেন আর কোন কাজে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন—সেটি ঠিক করা। চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল দিয়ে লেখা তৈরি, তথ্যের সারসংক্ষেপ বা বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায়। তবে এআইয়ের তৈরি তথ্য বা পরামর্শ যাচাই না করে সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে বুঝুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা গান শোনার অ্যাপ ব্যবহার করলে প্রায়ই দেখা যায়, একবার কোনো ধরনের কনটেন্ট দেখার পর একই ধরনের আরও কনটেন্ট সামনে আসছে। এর পেছনে কাজ করে অ্যালগরিদম।

ব্যবহারকারীর দেখা, শোনা, সার্চ করা কিংবা পছন্দের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম পরবর্তী কনটেন্ট নির্বাচন করে দেখায়। ফলে নিজের পছন্দের কনটেন্ট সহজে পাওয়া গেলেও এতে একই ধরনের তথ্য বা বিনোদনের মধ্যে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ কারণে মাঝে মাঝে ওয়াচ হিস্ট্রি বা সার্চ হিস্ট্রি পর্যালোচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী মুছে দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন ধরনের কনটেন্ট খোঁজা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নেওয়ার অভ্যাসও তৈরি করা দরকার। এতে অ্যালগরিদমের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা সহজ হবে।

এআই-তৈরি ভিডিও নিয়ে সতর্ক থাকুন

এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। ডিপফেকের পাশাপাশি বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে এমন ভিডিও তৈরি করা সম্ভব, যা দেখে সহজে আসল-নকল বোঝা কঠিন হতে পারে।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও দেখলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। ভিডিওটির উৎস, প্রকাশের সময়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে একই তথ্য প্রকাশ হয়েছে কি না—এসব যাচাই করা জরুরি।

কোনো ভিডিওতে ওয়াটারমার্ক বা এআই-সংক্রান্ত পরিচিতি থাকলে সেটি একটি সতর্কসংকেত হতে পারে। তবে ওয়াটারমার্ক না থাকলেই ভিডিওটি আসল—এমন নিশ্চয়তা নেই। সন্দেহজনক ভিডিও শেয়ার করার আগে তথ্যের উৎস যাচাই করাই নিরাপদ।

ফোনের ডেটার ব্যাকআপ রাখুন

প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের নিরাপত্তা। ফোন হারানো, নষ্ট হওয়া বা সফটওয়্যারজনিত সমস্যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, কন্ট্যাক্ট ও নথি হারিয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ডেটার ব্যাকআপ রাখা জরুরি।

বর্তমানে বেশির ভাগ স্মার্টফোনেই স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপের সুবিধা রয়েছে। ছবি, ভিডিও, কন্ট্যাক্টসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ক্লাউড স্টোরেজ বা অন্য নিরাপদ মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়। তবে কোন তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে এবং বিনামূল্যের স্টোরেজের সীমা কত—সেটিও ব্যবহারকারীর জানা উচিত।

সব মিলিয়ে এআই ও অ্যালগরিদমের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, এআই টুলের ওপর নির্ভরতা, অনলাইনের তথ্য যাচাই কিংবা ব্যক্তিগত ডেটা সংরক্ষণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সচেতন ব্যবহারকারী হওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তি যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিকে ব্যবহার করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০