নাইটক্লাবের একটি ঘটনার জেরে ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্সের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ক্রিকেট রেগুলেটর। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) পেশাদার আচরণবিধির ৩.২ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত ২৩ আগস্ট ডার্বিতে ডারহামের সতীর্থদের সঙ্গে জয়ের উদ্যাপনে ছিলেন কার্স। ওই রাতে একটি নাইটক্লাবের বাইরে পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে। পরে জানানো হয়, মাতাল ও বিশৃঙ্খল আচরণের সন্দেহে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখান থেকে চলে যেতে রাজি হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কার্সের বিরুদ্ধে তখন কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।
ঘটনার পর ডার্বিশায়ার পুলিশ একটি কথিত মারধরের অভিযোগও তদন্ত করে। তবে সেপ্টেম্বরে পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। অর্থাৎ পুলিশের তদন্তে কার্সের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
এরপর ক্রিকেট রেগুলেটর নিজেদের তদন্ত চালায়। সেই তদন্ত শেষে কার্সের বিরুদ্ধে ইসিবির পেশাদার আচরণবিধির ৩.২ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এখন বিষয়টি ক্রিকেট ডিসিপ্লিন কমিটির শুনানিতে যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
ঘটনার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের ইংল্যান্ড দল থেকে কার্সকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইসিবি জানিয়েছিল, তদন্ত চলাকালে তিনি ওই টেস্টের জন্য নির্বাচনের জন্য বিবেচিত হবেন না।
এর আগে ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেছিলেন, কার্সের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কিছুটা সময় দূরে থাকা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য ছিল, কার্স পর্দার আড়ালে কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবেন বলে আশা করা যায়।
ঘটনাটি ইংল্যান্ড দলের সাম্প্রতিক মাঠের বাইরের বিতর্কের ধারাবাহিকতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগস্টে ঘটনার পর টেস্ট অধিনায়ক জো রুটও কার্সের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরেও দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
কার্সকে পরবর্তী সময়ে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দল থেকেও বাদ রাখা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দলেও তাঁর জায়গা হয়নি।
কার্স বর্তমানে ইসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির অধীনে আছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি ইংল্যান্ড ক্রিকেটে আলোচনায় থাকবে। শৃঙ্খলাবিষয়ক কমিটির সিদ্ধান্তের পরই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা জানা যাবে।