চলে গেলেন কিংবদন্তি নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও

আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৬ ০১:১৫:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১০-২০২৬ ০১:১৫:০৬ অপরাহ্ন

ভারতের বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও আর নেই। শনিবার রাতে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই গুণী নির্মাতা। তেলুগু চলচ্চিত্রের অন্যতম সৃজনশীল পরিচালক হিসেবে পরিচিত সিঙ্গীতম পাঁচ দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ৬০টিরও বেশি সিনেমা নির্মাণ করেছেন। তেলুগুর পাশাপাশি তামিল, কন্নড় ও হিন্দি ভাষার সিনেমাতেও কাজ করেছেন তিনি।

সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা

১৯৩১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের গুদুরে জন্ম সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাওয়ের। চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু কিংবদন্তি পরিচালক কে ভি রেড্ডির সহকারী হিসেবে। ‘মায়াবাজার’ ও ‘জগদেকা ভীরুনি কথা’র মতো জনপ্রিয় সিনেমার নির্মাণপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

১৯৭২ সালে ‘নীতি নিজায়িতি’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর একের পর এক ভিন্নধর্মী সিনেমা নির্মাণ করে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন।

‘ময়ুরি’তে বাস্তব জীবনের গল্প

১৯৭৪ সালে তিনি নির্মাণ করেন ‘দিক্কাত্র পার্বতী’। সিনেমাটি তামিল ভাষার সেরা ফিচার ফিল্ম হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। ১৯৭৭ সালের ‘থারাম মারিন্দি’ সিনেমার জন্যও তিনি নান্দী পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৮৫ সালের ‘ময়ুরি’ তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। ভারতীয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সুধা চন্দ্রনের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করেন তিনি। এতে সুধা চন্দ্রন নিজেই অভিনয় করেন। পরে সিনেমাটি হিন্দিতে ‘নাচে ময়ুরি’ নামে নির্মিত হয়।

সংলাপহীন ‘পুষ্পক বিমানম’

সিঙ্গীতমের সবচেয়ে আলোচিত কাজগুলোর একটি ‘পুষ্পক বিমানম’। ১৯৮৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয় করেন কমল হাসান ও অমলা। ছবিটির বিশেষত্ব ছিল, এতে প্রচলিত কোনো সংলাপ ছিল না।

অভিনয়, শব্দ, মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরী ভাষার মাধ্যমে গল্প বলেছিলেন সিঙ্গীতম। ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলীর এই সিনেমা দর্শকের প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করে।

কমল হাসানের সঙ্গে সফল জুটি

কমল হাসানের সঙ্গে সিঙ্গীতমের সৃজনশীল সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। ‘সোম্মোকাদিদি সোকোকাদিদি’, ‘রাজা পারভাই’, ‘পুষ্পক বিমানম’ ও ‘মাইকেল মাদানা কামা রাজন’-এর মতো সিনেমায় তাঁদের কাজ দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

সময়ভ্রমণের গল্পেও সাফল্য

১৯৯১ সালের ‘আদিত্য ৩৬৯’ সিঙ্গীতমের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা। নন্দমুরি বালকৃষ্ণ অভিনীত ছবিটিতে সময়ভ্রমণের গল্প তুলে ধরা হয়। তেলুগু সিনেমায় বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে সিনেমাটি এখনো আলোচিত।

এ ছাড়া ‘ভৈরব দ্বীপম’-এর মতো সিনেমায় ফ্যান্টাসি, পুরাণ ও অ্যাডভেঞ্চারের সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি।

শেষ বয়সেও সিনেমার প্রতি আগ্রহ

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও। ২০১১ সালে তিনি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও পান।

নব্বই পেরিয়েও সিনেমার প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি। ২০২৬ সালে নবীন নির্মাতা নাগ অশ্বিনের প্রযোজনায় ‘সিং গীতম’ নামে তাঁর ৬১তম সিনেমা নির্মাণের তথ্যও সামনে আসে।

বৈচিত্র্যময় গল্প, নতুন নির্মাণশৈলী ও পরীক্ষামূলক কাজের জন্য সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও ভারতীয় চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০