মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট, শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড সৌদির

আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৬ ১১:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-১০-২০২৬ ১১:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনোজান শিবারাসা নামের ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। তার জীবন রক্ষায় সৌদি সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানিয়েছে পরিবার।

আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলেকে ক্ষমা করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শ্রীলঙ্কায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন আনোজানের সাজা মওকুফের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো সময়সূচি প্রকাশ করেনি। সাজা কবে কার্যকর হবে, তা-ও জানা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার পর এক মুসলিম তরুণের একটি কুকুরকে লাথি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনলাইনে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হয়।

একপর্যায়ে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তিনি মন্তব্যটি মুছে দিয়ে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তবে মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর বিষয়টি আনোজানের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোও সৌদি কর্তৃপক্ষ মুছে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসা বিবিসিকে বলেন, সৌদি আরবে প্রথমে কেউ বিষয়টি জানতেন না। শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল পাঠানোর পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। সাজা কমানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানান শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ।

পরে ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় পরিবর্তন আসে। সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে আনোজানের বিচার চেয়ে আপিল করে। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানকে সহায়তার জন্য তারা সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করে। প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন, আনোজানের জন্য সাধারণ ক্ষমা আদায়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

এদিকে মামলার বিষয়ে সৌদি আরবে তার আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতে শ্রীলঙ্কার চার সদস্যের একটি আইনি প্রতিনিধিদল দেশটিতে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলের সদস্য প্রেসিডেন্টস কাউন্সেল উপুল কুমারাপ্পেরুমা জানান, সৌদি আরবের দুটি আইন প্রতিষ্ঠান আনোজানের মামলা পরিচালনা করছে। তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আনোজানের পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর থেকে তারা তার কোনো ফোন পাননি বলে জানিয়েছেন তার ভাই। বিষয়টি তারা দূতাবাসকে জানিয়ে আনোজানের অবস্থার বিষয়ে তথ্য চাইলেও এখনো কোনো উত্তর পাননি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি আরবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে কঠোর সাজা দেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। এর আগে ২০২৩ সালে সৌদি নাগরিক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আল-গামদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সাজা বাতিল করে তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০