ফেসবুকে ঢুকলেই চোখে পড়ছে বাংলাদেশের মানচিত্র। তবে এটি সাধারণ কোনো মানচিত্র নয়। কারও ম্যাপে দেখা যাচ্ছে ১০টি জেলা, কারও ৩০টি, আবার কেউ দাবি করছেন ৬৪ জেলার ভ্রমণই শেষ। নিজের ঘুরে দেখা জেলাগুলো মানচিত্রে চিহ্নিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার এই প্রবণতা গত কয়েক দিনে বেশ সাড়া ফেলেছে।
এই ট্রেন্ডের পেছনে রয়েছে ‘আনসিন বাংলাদেশ’ নামের একটি ইন্টার্যাকটিভ ওয়েব প্ল্যাটফর্ম। সেখানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ব্যবহারকারী যেসব জেলায় ভ্রমণ করেছেন, সেগুলো নির্বাচন করে নিজের একটি ডিজিটাল ভ্রমণ মানচিত্র তৈরি করতে পারেন। পরে সেটি ছবি বা পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যায়।
যেভাবে তৈরি হচ্ছে ভ্রমণের ম্যাপ
প্ল্যাটফর্মটিতে প্রবেশ করলে বাংলাদেশের আট বিভাগ ও ৬৪ জেলার তালিকার পাশাপাশি একটি ইন্টার্যাকটিভ মানচিত্র দেখা যায়। ব্যবহারকারী তালিকা থেকে, সার্চ করে কিংবা সরাসরি মানচিত্রে ক্লিক করে ভ্রমণ করা জেলাগুলো নির্বাচন করতে পারেন।
জেলা নির্বাচন শেষে মোট কতটি জেলা ভ্রমণ করা হয়েছে, তার হিসাব দেখায় প্ল্যাটফর্মটি। এরপর বিভিন্ন থিম বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাইলে নিজের নাম ও ছবি যোগ করে ম্যাপটি আরও ব্যক্তিগত করে নেওয়া যায়। তৈরি করা ম্যাপ পিএনজি, জেপিজি বা পিডিএফ ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা যায়।
কয়েকটি ক্লিকেই তৈরি হওয়া এই ম্যাপ ফেসবুকে পোস্ট করার পর অন্যরাও নিজেদের ভ্রমণের হিসাবের সঙ্গে তা তুলনা করছেন। একেকজনের ম্যাপে একেক রকম জেলার চিত্র থাকায় তৈরি হচ্ছে কৌতূহলও।
শুধু হিসাব নয়, ভ্রমণ পরিকল্পনাও
‘আনসিন বাংলাদেশ’ শুধু কত জেলা ভ্রমণ করা হয়েছে, সেই হিসাব রাখার প্ল্যাটফর্ম নয়। এতে দেশের ৬৪ জেলার ২৪০টির বেশি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। কোনো জেলা নির্বাচন করলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দর্শনীয় স্থান, যাতায়াত, আনুমানিক খরচ ও থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া রয়েছে ‘ট্রিপ প্লানার’। এতে কোথা থেকে যাত্রা শুরু হবে, কোন কোন জেলায় যাওয়া হবে, ভ্রমণের সময়কাল ও বাজেটের তথ্য দিয়ে পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ রয়েছে। কম দূরত্বের রুট অনুযায়ী জেলার ক্রম সাজানোর সুবিধাও রাখা হয়েছে।
দেশের জেলার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের হিসাব রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে। ১৯৫টি দেশ ও ছয় মহাদেশের মানচিত্র ব্যবহার করে একইভাবে বিশ্বভ্রমণের একটি ভিজ্যুয়াল হিসাব তৈরি করা যায়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই উদ্যোগ
প্ল্যাটফর্মটির নির্মাতা মো. সাব্বির হোসেন রবিন। নিজের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকেই এমন একটি মানচিত্র তৈরির ধারণা পান তিনি। নতুন কোনো জেলা ঘুরে আসার পর সেটিকে বাংলাদেশের মানচিত্রে চিহ্নিত করে রাখার ইচ্ছা থেকেই কাজ শুরু করেন।
সাব্বির হোসেনের ভাষ্য, নতুন কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে যাতায়াত, দর্শনীয় স্থানসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে তাঁকে একাধিক উৎস ঘাঁটতে হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় আনার উদ্যোগ নেন তিনি।
শুরুতে নিজের প্রয়োজনেই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছিলেন। পরে বন্ধুদের পরামর্শে অন্যদের সঙ্গে এটি শেয়ার করেন। এরপর ভ্রমণবিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি ছড়িয়ে পড়ে। এখন অনেকেই নিজেদের ভ্রমণের হিসাব তুলে ধরতে তৈরি করছেন এই ম্যাপ।
কেন দ্রুত ছড়াল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ এতে ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। একজনের ম্যাপ দেখে অন্যজনও নিজের ভ্রমণের হিসাব মিলিয়ে দেখতে পারছেন। ফলে এটি শুধু তথ্যভিত্তিক পোস্ট না থেকে এক ধরনের সামাজিক অংশগ্রহণের প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।
কারও ম্যাপে কম জেলা, কারও বেশি—এই তুলনা তৈরি করছে নতুন আগ্রহ। আবার যেসব জেলা এখনো ভ্রমণ করা হয়নি, সেগুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ ভ্রমণের পরিকল্পনাও করছেন অনেকে। ফলে নিজের ভ্রমণের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন জায়গা ঘুরে দেখার আগ্রহ তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে এই ডিজিটাল মানচিত্র।