চুল পড়া কি রোগের সংকেত?

আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৬ ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-১০-২০২৬ ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন

আগের তুলনায় বেশি চুল পড়তে দেখলে অনেকে প্রথমেই শ্যাম্পু বা চুলের যত্নের পণ্য বদলানোর কথা ভাবেন। তবে অতিরিক্ত চুল পড়া অনেক সময় শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।

শরীরের জন্য চুল অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ নয়। ফলে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা কোনো অসুস্থতার সময় শরীর প্রয়োজনীয় অঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে চুলের বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়ে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি, হরমোনের ভারসাম্য ও ভালো রক্তসঞ্চালন প্রয়োজন। এসবের কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে তার প্রভাব চুলের ওপর পড়তে পারে। অনেক সময় অন্য কোনো উপসর্গ স্পষ্ট হওয়ার আগেই চুল পড়া শুরু হয়। তাই দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক হারে চুল পড়লে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তন না করে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।

থাইরয়েডের সমস্যা

থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া—দুই ধরনের সমস্যাই চুলের বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। থাইরয়েড হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে চুলের ফলিকলেও প্রভাব পড়তে পারে। এতে চুল পাতলা হওয়া বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আয়রনের ঘাটতি ও রক্তাল্পতা

চুলের বৃদ্ধির সঙ্গে আয়রনেরও সম্পর্ক রয়েছে। আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে প্রয়োজনীয়, আর হিমোগ্লোবিন শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তাল্পতা তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে চুলের বৃদ্ধিতেও। দীর্ঘদিন চুল পড়ার পাশাপাশি ক্লান্তি বা দুর্বলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

পিসিওএসের সঙ্গে সম্পর্ক

নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের সঙ্গেও চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। এ অবস্থায় অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে মাথার চুল পাতলা হতে পারে। একই সঙ্গে শরীরের অন্য অংশে অতিরিক্ত লোমও দেখা দিতে পারে। চুল পাতলা হওয়ার পাশাপাশি মাসিক অনিয়ম, ব্রণ বা অন্য হরমোন-সংক্রান্ত লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অটোইমিউন রোগেও চুল পড়তে পারে

কিছু অটোইমিউন রোগের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে চুল পড়া। যেমন অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চুলের ফলিকলের ওপর আক্রমণ করে। লুপাসের মতো কিছু অটোইমিউন রোগেও চুল পড়তে পারে। এ ধরনের সমস্যায় হঠাৎ গোলাকার অংশে চুল উঠে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে চুল পাতলা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিসের প্রভাব

দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে, যার প্রভাব চুলের ফলিকলেও পড়তে পারে। তবে শুধু চুল পড়ছে বলেই ডায়াবেটিস হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা উচিত।

পুষ্টির ঘাটতিও কারণ হতে পারে

কোনো নির্দিষ্ট রোগ না থাকলেও শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল পড়তে পারে। খাদ্যাভ্যাসের ঘাটতি, শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যা বা বিশেষ কোনো সময়ে শরীরের বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন থেকে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন ডি, জিঙ্ক, বায়োটিন ও প্রোটিন চুলের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে পরীক্ষা না করে নিজের ইচ্ছেমতো ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়। কিছু পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত গ্রহণ করলেও শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।

মানসিক চাপের প্রভাব কয়েক মাস পরেও দেখা দিতে পারে

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ চুল পড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চাপের ফলে শরীরের হরমোনগত পরিবর্তন চুলের বৃদ্ধির চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। এর একটি পরিচিত ধরন হলো টেলোজেন এফ্লুভিয়াম।

বড় ধরনের মানসিক চাপ, অসুস্থতা বা শারীরিক ধাক্কার প্রায় দুই থেকে তিন মাস পর হঠাৎ বেশি চুল পড়তে শুরু করতে পারে। এ কারণে অনেকেই চুল পড়ার সঙ্গে কয়েক মাস আগের মানসিক চাপের সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।

শুধু শ্যাম্পু বদলালেই সমাধান নয়

চুল পড়ার কারণ যদি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যা হয়, তাহলে শুধু শ্যাম্পু বা বাহ্যিক প্রসাধনী ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা, আর আয়রনের ঘাটতি থাকলে তা শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

চুল পড়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে দ্রুত চুল পাতলা হয়ে গেলে, মাথার নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় হঠাৎ চুল উঠে গেলে বা চুল পড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন, মাসিকের অনিয়ম কিংবা ত্বকে অন্য কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই নিজের মতো করে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট না নিয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০