ঘুস না পেলে যে কৌশল গ্রহণ করেন সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল

আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১১:০২:১৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১১:০২:১৯ পূর্বাহ্ন

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না হওয়া, দলিলপ্রতি ঘুষ নেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দলিলের খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও নির্ধারিত উৎকোচ না দিলে দলিলে স্বাক্ষর করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতারা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এতে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে সাবরেজিস্ট্রার দাবি করেছেন, জেলা রেজিস্ট্রারকে অবগত করেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন।

অন্যদিকে দ্বিগুণ উৎকোচের বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ বা জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতেও দলিল সম্পাদনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, উৎকোচ দিতে অনিচ্ছুক সেবাপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন কাগজের ত্রুটি দেখিয়ে হয়রানি করা হয়।

সরেজমিন সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, যেসব দাতা-গ্রহীতা দলিলপ্রতি নির্ধারিত উৎকোচ দিচ্ছেন, তাদের দলিলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে এজলাসে দাখিল করা হচ্ছে। আর যারা টাকা দিচ্ছেন না, তাদের কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীন মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, উৎকোচ না দেওয়ায় তাঁদের দলিল কাগজের ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেওয়া হয়। সাত দিন হয়রানির পর মঙ্গলবার অফিসের সাইফুল আলমের কাছে ১ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়ার পর দলিলটি জমা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

বারাইপুর গ্রামের শাহাদাত অভিযোগ করেন, সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাব-কবলা দলিলপ্রতি ১ হাজার ৩০০ টাকা এবং হেবার ঘোষণা দলিলপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে আরও ৬০০ টাকা দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শাহাদাতের আরও অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো কয়েকজন দলিল লেখককে অপমান করে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, অফিস সহকারী মোল্লার মাধ্যমে এসব টাকা নেওয়া হয়।

দলিল লেখক সমিতির সম্পাদক বলেন, ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে-অর্ডার বাদে ২ শতাংশ টাকা হাতে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এর বাইরে নগদ টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। তবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে দলিল লেখকদের কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে গত বছরের মার্চে বারাইপুর গ্রামের শাহাদাত ও দাতা জয়নাল আবদিনের একটি দলিলের বিষয়েও সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২১১ নম্বর দলিল থেকে দুটি সাব-কবলা দলিল করতে ৫৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগেরও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলা রেজিস্ট্রারকে অবগত করেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০