বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর। অভিনয়ের পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তাঁর ছিল দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী সম্পর্ক। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি সেনাদের সঙ্গে থেকে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে নানা পাটেকরের এই সম্পর্কের সূত্রপাত মূলত চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় অভিষেক হয় তাঁর। ছবিতে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি হিসেবে মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রি সেন্টারে প্রায় তিন বছর কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৯০ সালে তাঁকে ভারতীয় টেরিটোরিয়াল আর্মিতে সম্মানসূচক ক্যাপ্টেন পদ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আরও গভীর হয়।
১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নানা পাটেকর। প্রথমদিকে উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা এতে সম্মতি না দিলেও তিনি তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিজের সামরিক প্রশিক্ষণ ও জাতীয় পর্যায়ে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সেনাদের সঙ্গে কাজ করার অনুমতি চান তিনি।
পরে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ওই বছরের আগস্টে নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন নানা। ২৬ জুলাই কার্গিল যুদ্ধ শেষ হলেও আগস্টে তিনি দুই সপ্তাহের বেশি সময় সেনাদের সঙ্গে ছিলেন।
যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেননি তিনি। বেস হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিমের সঙ্গে লজিস্টিকস ও বিভিন্ন অপারেশনাল কাজে যুক্ত ছিলেন। জানা যায়, শ্রীনগরে পৌঁছানোর সময় তাঁর ওজন ছিল ৭৬ কেজি। সেনাদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ফিরে আসার সময় ওজন কমে দাঁড়ায় ৫৬ কেজিতে।
টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালে অবসর নেন নানা পাটেকর। একই বছর শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পান তিনি। এর আগে তাঁকে সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদেও ভূষিত করা হয়।
১৯৭৮ সালে মুজফফর আলির ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন নানা পাটেকর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘অঙ্গার’, ‘অপহরণ’ ও ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন নানা পাটেকর। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার এই অধ্যায়ও তাঁর জীবনের অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে আছে।