ভারতের যুবসমাজকে ট্রেন বাতিল করেও আটকে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে বিরোধীরা ‘মিথ্যা’ প্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এসব কথা বলেন চিরাগ। তাঁর মতে, বারবার বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত করা ঠিক নয়।
ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের শরিক চিরাগকে দিল্লিতে ট্রেন বাতিল, মেট্রো পরিষেবায় বিঘ্ন এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করেন।
চিরাগ পাসোয়ান বলেন, ‘এরা ভারতের যুবসমাজ। প্রভু, এদের কেউ আটকাতে পারবে না। কিছু মানুষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। কতগুলো ট্রেন আটকে রাখা যাবে? কতটা যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করা যাবে? কতগুলো রাস্তা অবরুদ্ধ করা যাবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের যুবসমাজের গোটা বিশ্বকে পথ দেখানোর ক্ষমতা রয়েছে। তাদের কেউ আটকাতে পারবে না।’
বিরোধী দলগুলোকে কটাক্ষ করে চিরাগ অভিযোগ করেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে তারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের রাজনীতিতে বেশি আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আপনারা (বিরোধীরা) নির্বাচনে জিততে পারছেন না। আর এখন বিক্ষোভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করছেন।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলে বিরোধীদের উচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে সময় চেয়ে বৈঠক করা। বৈঠকের পরিবর্তে বিক্ষোভকে উপযুক্ত পদ্ধতি বলে মনে করেন না তিনি।
এর আগে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও কথা বলেছিলেন চিরাগ পাসোয়ান। গত মাসে তিনি নির্বাচন কমিশন, বিশেষ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে, সংস্থার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
তখন চিরাগ বলেছিলেন, নির্বাচন কমিশনকে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের সংশয় দূর করতে কমিশনের উচিত দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।