‘গাজায় নামমাত্র যুদ্ধবিরতি আছে, বাস্তবে নেই’

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ১২:১১:২৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ১২:১১:২৯ অপরাহ্ন

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি, খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুতি থামেনি। গত এক বছরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে ১০০টির বেশি মানবিক, মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখন শুধু নামেই টিকে আছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় প্রতিদিন ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নিহত ও আহত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ত্রাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পুনর্গঠনসামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, সেভ দ্য চিলড্রেন, অক্সফাম ও গ্রিনপিসসহ শতাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা এই বিবৃতিতে অংশ নিয়েছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে গাজায় হত্যাকাণ্ড ও মানবিক সংকটকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে চুক্তির এক বছর পরও সহিংসতা, খাদ্যসংকট ও বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩২৭টি শিশু রয়েছে।

নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মহাসচিব জান এগেলান্ড বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের এক বছর পরও ফিলিস্তিনিদের জীবনে সামান্যই পরিবর্তন এসেছে। গাজার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে পরিবারগুলোর পক্ষে জীবন পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী ইনগার অ্যাশিং বলেন, শিশুরা যখন নিহত হচ্ছে এবং পরিবারগুলো জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে না, তখন যুদ্ধবিরতির অর্থই হারিয়ে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আহতদের প্রায় ২৪ শতাংশ এমন ধরনের আঘাত পেয়েছেন, যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রয়োজন। এসব আহতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু। এদিকে গাজার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোও সংকটের মধ্যে রয়েছে; ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানির ঘাটতিতে হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে জবাবদিহির বিষয়টি চাপা পড়ে থাকতে পারে না। ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বাধ্যতামূলক নির্দেশনা মেনে চলতে চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয় প্রয়োজন এবং বিপুলসংখ্যক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্গঠনসামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরা এবং স্বাভাবিক জীবন শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০