ভারতের ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্ক ও মুকেশ আম্বানির ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মাস্ক জানিয়েছেন, ভারতে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা সাশ্রয়ী মূল্যে দিতে হবে। তাঁর এ মন্তব্যে দেশটির দীর্ঘদিনের শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিওর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, কয়েক দিনের মধ্যেই জিওর মূল প্রতিষ্ঠানের ভারতের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়ার কথা রয়েছে। খবর আল জাজিরার।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ভারতে স্টারলিংকের দাম বেশি হলে মানুষ তা কিনবে না। তাই স্পেসএক্সকে সেবাটির মূল্য সাশ্রয়ী রাখতে হবে। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতা সব সময় সাধারণ মানুষের উপকার করে এবং তাদের সামনে বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়ায়। মাস্কের ভাষ্য, এতে আম্বানির মুনাফা কমতে পারে, তবে তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে ভারতে স্টারলিংকের নির্দিষ্ট মূল্য এখনো ঘোষণা করেননি তিনি।
ভারতে মোবাইল ডেটার দাম প্রতি গিগাবাইটে প্রায় ৭ দশমিক ৭৪ রুপি, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন দামগুলোর একটি। কম দামে ডেটা দেওয়ার কৌশলেই দেশটির বাজারে বড় অবস্থান তৈরি করেছে জিও।
কেনিয়ার মতো বাজারে একই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ তৈরি করেছে মাস্কের প্রতিষ্ঠান। এবার স্পেসএক্স নিজেই মোবাইল অপারেটর হিসেবে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছে, যার শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি পোস্টে মাস্ক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ও আম্বানির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভারতের অন্যতম বড় ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে রেখে জিওকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার গভীর রাতে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে সম্বোধন করে তাঁকে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান মাস্ক। মোদির সঙ্গে মাস্কের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য সুসম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাঁর এমন মন্তব্যকে অবস্থানের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত সরকার। সরকারের বক্তব্য, স্টারলিংক, জিওসহ তিনটি স্যাটেলাইট প্রকল্পই চূড়ান্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাত করা হচ্ছে না।