১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পাঠ, সেই আব্বাস আর নেই

আপলোড সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১১:৩২:৩৫ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৩-১০-২০২৬ ১১:৩২:৩৫ পূর্বাহ্ন

নাটোরের গুরুদাসপুরে চশমা ছাড়াই পবিত্র কোরআন পড়তে পারা আলোচিত শতবর্ষী আব্বাস আলী প্রামাণিক মারা গেছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ১২৩ বছর ৪ মাস। তবে পরিবারের দাবি, তাঁর প্রকৃত বয়স আরও বেশি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাতি রিপন হোসেন।

আব্বাস আলী প্রামাণিক ওই গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে, ছয় ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্বাস প্রামাণিক শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তবে রোববার (১১ অক্টোবর) হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ সময় কথাবার্তায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন।

পরে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সেবাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক পাঠানো হয় এবং তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ জীবনে দেখেছেন ইতিহাসের নানা অধ্যায়

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, আব্বাস আলী প্রামাণিকের বয়স ছিল ১২৩ বছর। পরিবারের দাবি, তাঁর প্রকৃত বয়স আরও বেশি। দীর্ঘ জীবনে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছেন। তাঁর নাতি-নাতনিদের বয়সও ৬০ বছর ছাড়িয়েছে।

সারাজীবন ধর্মচর্চায় কাটিয়েছেন আব্বাস আলী। বয়সের ভার কিংবা অসুস্থতা—কোনো অবস্থাতেই নামাজ ছাড়েননি বলে জানিয়েছে পরিবার। পেশায় তিনি ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পাশাপাশি বিনা মূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়ে অনেক মানুষকে ধর্মীয় শিক্ষা দিয়েছেন। জীবনের বড় একটি অংশ কাটিয়েছেন মানুষের সেবায়।

চশমা ছাড়াই কোরআন তিলাওয়াত করতেন

অত্যন্ত বেশি বয়সেও আব্বাস আলীর দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকায় তিনি এলাকায় আলোচিত ছিলেন। চশমা ছাড়াই পবিত্র কোরআনের পাতা উল্টে স্বচ্ছন্দে তিলাওয়াত করতে পারতেন তিনি। তাঁর এই সক্ষমতা স্থানীয়দের বিস্মিত করত।

শতবর্ষী এই প্রবীণের জীবন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কখনো যানবাহনে চড়েননি; পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতেন। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও জীবনের শেষদিকে একটি ভাঙা ঘরে দিন কাটিয়েছেন। তবে ছেলে-মেয়ে, নাতি ও নাতবউদের সেবা পেয়েছেন তিনি।

ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছিলেন আব্বাস আলী প্রামাণিক। মেয়েরাও সময় পেলেই বাবাকে দেখতে বাড়িতে ছুটে আসতেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০