মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই ব্যক্তিকে ভিজিট ভিসায় বিদেশে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মানিলন্ডারিং মামলায় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মাসুদ করিম (৫০)। গত ১৩ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর পল্টন থানাধীন পলওয়েল মার্কেট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাবার নাম মৃত মজিবর রহমান হাওলাদার এবং মায়ের নাম সাফিয়া বেগম। তিনি শরীয়তপুরের সখিপুর উপজেলার মনাই হাওলাদার কান্দি (চরভাগা) গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুই ভুক্তভোগীকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁদের ভিজিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় নিয়ে বিমানবন্দরের বাইরে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সহায়তায় ভুক্তভোগীদের আত্মীয়স্বজনের কাছে ফোন করে তাঁদের মুক্তির বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ভুক্তভোগীদের একজন থানায় মামলা করেন।
মামলার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের মুক্তির জন্য ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা আদায় করা হয়। মানব পাচার, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাসুদ করিম এবং তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান তাহসিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করা হয়।
২০২৬ সালের ১২ মার্চ দায়ের করা এ মামলার নম্বর ২০। এতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী, ২০১৫)-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক অভিযুক্ত এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানব পাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।