চায়ের আড্ডা হোক কিংবা সকালের নাশতা—শিঙাড়া অনেকেরই পছন্দের খাবার। কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে অফিসের নাশতার টেবিলেও বেশ পরিচিত এই মুখরোচক খাবার। তবে শিঙাড়া খাওয়ার পর কারও কারও পেটে গ্যাস, বুকজ্বালা, ঢেকুর ওঠা কিংবা পেট ভার হয়ে থাকার মতো অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, শিঙাড়া খেলে তাঁদের উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত ময়দার আবরণে আলু ও মসলার পুর দিয়ে ডুবো তেলে ভাজা হয় শিঙাড়া। এ কারণে এতে চর্বি ও ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে
তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এর ফলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ওঠা কিংবা গলায় অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অস্বস্তি বেশি হতে পারে।
ডুবো তেলে ভাজা খাবার পাকস্থলী থেকে হজম হয়ে বের হতে তুলনামূলক বেশি সময় নিতে পারে। তাই একসঙ্গে বেশি শিঙাড়া খেলে পেট ফাঁপা, পেট ভার হয়ে থাকা কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
শিঙাড়ায় কতটা ক্যালরি থাকবে, তা নির্ভর করে এর আকার, পুরের উপকরণ ও ভাজার পদ্ধতির ওপর। তাই সব শিঙাড়ার ক্যালরির পরিমাণ এক নয়। তবে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের দৈনিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
নিয়মিত অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য না থাকলে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই সকালের নাশতায় নিয়মিত শিঙাড়ার ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার বেছে নেওয়া ভালো।