পেঁয়াজের বাজারে কারসাজি: ফিলিপাইনে ছয় কোম্পানিকে ৩ কোটি ডলার জরিমানা

আপলোড সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-১০-২০২৬ ০৮:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন

ফিলিপাইনে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর পেছনে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগে ছয়টি কোম্পানিকে ১৭৬ কোটি পেসো (২ কোটি ৯০ লাখ ডলার) জরিমানা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালে ফিলিপাইনের রান্নাঘরের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে প্রতি কেজি ৮০০ পেসোতে পৌঁছায়। এ দাম দেশটির দৈনিক ন্যূনতম মজুরি এবং মাংসের দামকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

এ সংকট তৎকালীন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তিনি ক্রমবর্ধমান খাদ্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ফিলিপাইনের প্রতিযোগিতা কমিশন (পিসিসি) বুধবার জানায়, পেঁয়াজ আমদানিকারক এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত এ জরিমানা ২০১৬ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বোচ্চ।

২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৩ সালের শুরুর কয়েক মাস পেঁয়াজের সংকটে রেস্তোরাঁর মেনু থেকেও এ উপাদানটি উধাও হয়ে গিয়েছিল। পেঁয়াজ চোরাচালানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এমনকি একপর্যায়ে এটি মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। অন্তত একবার বিয়ের তোড়াতেও পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয়েছিল।

সংকট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়। ঘাটতির পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করে মার্কোস বলেছিলেন, ‘তাদের কৃতকর্মের কারণে ফিলিপিনোরা অনাহার ও দারিদ্র্যে মারা যাচ্ছে।’

২০২৩ সালের শেষ দিকে স্থানীয়ভাবে বাম্পার ফলন বাজারে আসার পর পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হতে শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে সংকটের অবসান ঘটে।

মূল্যসংকটের কারণ তদন্তে গঠিত একটি সংসদীয় কমিটি জানিয়েছিল, পেঁয়াজের দাম ‘কৃত্রিমভাবে’ বাড়ানোর পেছনে একটি সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল।

পিসিসি জানায়, কোম্পানিগুলোর ওপর চালানো অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, ২০২০ ও ২০২১ সালে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদিত মোট ছাড়পত্রের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্মিলিতভাবে এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করত।

কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো পেঁয়াজ আমদানি, কোল্ড স্টোরেজ ও পাইকারি বিতরণের ক্ষেত্রে অবৈধভাবে বাজার ভাগাভাগির পরিকল্পনায় জড়িত ছিল।

পিসিসি বলেছে, এ বিপুল অঙ্কের জরিমানা অর্থনীতির সব খাতে সিন্ডিকেটকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভোক্তাদের সুরক্ষায় কমিশনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

কমিশন আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের মাধ্যমে ফৌজদারি মামলাও পরিচালিত হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০