আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পাহাড়ে পর্যটকের ঢল নামতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে রাঙামাটি শহর ও আশপাশের এলাকা এবং সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট-কটেজ ও হোটেল-মোটেলে অগ্রিম বুকিং বেড়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বুকিং আরও বাড়বে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
চলতি মাসের ২০ ও ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ২২ অক্টোবর সরকার নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। দীর্ঘ ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হ্রদ-পাহাড়। এবারও কাপ্তাই হ্রদ, সাজেক ভ্যালির পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
রাঙামাটির প্রথম ইকো রিসোর্ট ‘রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ললিত সি. চাকমা বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্টের ৯৫ শতাংশ কটেজ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বুকিং শতভাগে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তিনি। পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এবার রাঙামাটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হতে পারে বলেও জানান তিনি।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পূজার ছুটিতে তাঁদের পর্যটন মোটেলের ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বুকিং শতভাগ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। পর্যটকদের জন্য ঝুলন্ত সেতুসহ কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র সংস্কার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যটকদের বরণে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।
রাঙামাটি শহরের হোটেল গ্র্যান্ড মাস্টারের পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন আল মামুন বলেন, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের হোটেলের সব কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বরণে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় পর্যটকদের সমাগমও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
কাপ্তাই হ্রদের একটি দ্বীপে অবস্থিত ‘দ্য গ্র্যান্ড হিল তাজ’ রিসোর্টের পরিচালক রাজন রক্ষিত জানান, তাঁদের রিসোর্টে ১১টি কক্ষ রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সব কক্ষ বুকিং রয়েছে। কক্ষ ছাড়াও রিসোর্টটিতে তাঁবুতে রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে এবং সেখানেও বুকিং পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে রাঙামাটিতে পর্যটকদের সমাগম ভালো বলে জানান তিনি।
সাজেক ভ্যালির রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দে বলেন, পাঁচ দিন পর শুক্রবার সাজেকে কিছু পর্যটক এসেছেন। অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত হওয়া এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শনিবার থেকে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। তবে শুক্রবার তাঁর রিসোর্টে পর্যটক কিছুটা কম ছিলেন।
মিশু দে আরও বলেন, আগামী ১৮ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর রিসোর্টের সব কক্ষ বুকিং রয়েছে। ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং হয়েছে ৭০ শতাংশ কক্ষের। বুকিং আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। এখন সাজেকে পর্যটনের মৌসুম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ে সাধারণত বেশি পর্যটক বেড়াতে আসেন। এবারও সাজেক উপত্যকায় পর্যটকের ঢল নামতে পারে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে শতভাগ বুকিং রয়েছে। পূজার ছুটিতে সাজেকে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে পর্যটক আসতে শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি।