খোঁজ নেই মাভাবিপ্রবির নাহিদসহ স্ত্রী-সন্তানদের, নেই হতাহতদের তালিকা

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১০:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১০:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদুর রহমান তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাঁদের বুকিং ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতাল, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তালিকাতেও তাঁদের নাম নেই বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। বুকিংয়ের নথি থাকার পরও তাঁদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা এবং সাত বছর বয়সী মেয়ে রোবাইনা ও তিন বছর বয়সী মেয়ে সুনাইনাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন।

রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুর রহমানের নামে ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষটি বুক করা হয়েছিল। নথিতে অতিথির সংখ্যা উল্লেখ করা হয় দুজন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। বুকিংয়ের বিলের একটি কপিও সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।

নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তাঁর ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরকে ফোন করেন। কিন্তু ভাই কিংবা পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে তাঁদের খোঁজ করছেন।

নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান জানান, তিনি বর্তমানে চীনে রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তিনি ও প্রতিষ্ঠানের অন্যরা নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে কেউই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। নাহিদুরকে একজন ভালো কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা রকিবুজ্জামান বলেন, খবরটি শোনার পর থেকে তিনি অসহায় বোধ করছেন।

নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাহিরা সিদ্দিকা সূচি জানান, নাহিদুরের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন। তাঁরাও নাহিদুর ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদুর নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পরে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক: শাকিলা জাহান
মোবাইল: ০১৩০১১০৪০৭০ ই-মেইল: info@gbanglanews.com

অফিস :

জি.এম বাংলা লিমিটেডের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

৫৬-৫৭, শরীফ ম্যানশন, মতিঝিল রোড, ঢাকা-১০০০