নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জিনু মার্কেটে নিজ দোকানে কর্মরত অবস্থায় মীযানুর রহমান মিজান (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র হামলাকারী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের জিনু মার্কেটে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মিজান স্টোরে’ এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মিজানকে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
আহত মীযানুর রহমান বেগমগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবু জায়েদ বলেন, গুলিবিদ্ধ মিজান স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। শনিবার রাতে কেনাবেচার সময় তিনি নিজ দোকানে কাজ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘কানা নিজাম’-এর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আবু জায়েদের ভাষ্য অনুযায়ী, কানা নিজামের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান পলাশ, কালা শহীদ, তারেক, রায়হান, শাহ আলম, রাজু, ফরহাদ, ফাহাদ, আসিফ, সৈকত, নজরুল, রনি, সাকিব, ফয়সাল ও শাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন ছিলেন। তাঁরা দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে মিজানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে একটি গুলি তাঁর বুকের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে মিজান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান আবু জায়েদ। পরে তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে জিনু মার্কেট ও আমানউল্যাপুর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত মিজানের খোঁজখবর নিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।