বরিশালে ২০১৫ সালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মুক্তার হোসেনকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁর বাকি জেরা আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং পুলিশের সাবেক দুই সদস্য মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যা করা হয় উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিকভাবে তাঁদের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহর নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাঁদের মধ্যে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। অন্যদিকে, উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
গত ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৭ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলছে।