মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইল সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে সোমবার এ বৈঠক হয়। সেখানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সফর সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে বৈঠকের খবর প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে তিন ইসরাইলি কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে বৈঠকের বিস্তারিত কিংবা সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে হেগসেথের এ সফর হলো। এর আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় নেতানিয়াহু বলেছিলেন, দুই মিত্রের এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমাদের একটি কাজ শেষ করতে হবে। আপনি এ কথা বলেছেন, আর আমরা একসঙ্গে তা শেষ করব।’
ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা?
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও ইসরাইল নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছে।
তবে ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে আসার অবস্থানে রয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে তিনি আরেকটি বড় ধরনের হামলা চালাতে চান না। ট্রাম্পও বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না।
দুই নেতার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপের দিকে এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কেন ওভদা বিমানঘাঁটিতে বৈঠক?
ওভদা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন থাকায় বৈঠকের স্থানটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘপাল্লার সামরিক অভিযানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা যুদ্ধবিমানকে দীর্ঘ সময় উড়তে এবং দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত বিমানে ওভদা বিমানঘাঁটিতে যান। সংবাদমাধ্যমটি বৈঠকটিকে ব্যতিক্রমী দীর্ঘ বলেও উল্লেখ করেছে।
তবে বিমানঘাঁটিতে বৈঠক হওয়া কিংবা সেখানে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকাই ইরানে নতুন হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে—এমন প্রমাণ নয়। বৈঠকের উদ্দেশ্য ও ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না আসা পর্যন্ত নতুন সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।